শুক্রবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

A National Daily In Bangladesh

ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী গ্রেফতার, খুন টাকার জন্য

ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী গ্রেফতার, খুন টাকার জন্য

বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে তার ব্যক্তিগত সহকারীকে গ্রেফতার করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত কারণেই এ তরুণ প্রযুক্তিবিদকে খুন করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমস।

পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ফাহিম সালেহর ২১ বছর বয়সী ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেভন হাসপিল ১০ হাজার ডলার আত্মসাৎ করার পর ফাহিমকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া নিউ ইয়র্কের গোয়েন্দা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানা যায়।

গোয়েন্দারা হত্যার মোটিভ দেখে ধারণা করছেন, ফাহিম এ অর্থচুরির বিষয়টি জেনে যান। কিন্তু তিনি পুলিশকে না জানিয়ে বরং সহকারী হাসপিলকে অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের কিছু প্রমাণ মিলেছে।

তদন্তকারীরা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফাহিমকে খুন করা হয়েছে সোমবার (১৩ জুলাই)। আর ম্যানহাটনে ২২ লাখ ডলারে কেনা তার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে মরদেহ পাওয়া যায় পরদিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)।

তারা আরো বলছেন, ফাহিমের ক্রেডিট কার্ড ব্যহার করেই হত্যাকারী হাসপিল হত্যার স্থান পরিষ্কার করার জন্য উপকরণ কেনেন। পরের দিন তিনি আবার অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে মরদেহ ইলেকট্রিক করাত দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ডে করেন এবং স্থানটি পরিষ্কার করেন।

গোয়েন্দারা বলছেন, হত্যাকারী তিন পিসের কালো স্যুট পরেন। মুখেও ছিল কালো মাস্ক। বহন করছিলেন একটি ডুফেল ব্যাগ। লিফট ও তার বিল্ডিংয়েও তিনি ফাহিমকে অনুসরণ করেন। পরে ঘরে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

লিফটের ভিতরে থাকা ক্যামেরায় দেখা গেছে হত্যাকারী তার অবস্থানের চিহ্ন মুছতে ব্যাটারিচালিত একটি পোর্টেবল ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করেছেন।

স্থানীয় পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে ম্যানহাটনের নিজ ফ্ল্যাটে মরদেহ পাওয়া যায় ফাহিমের। খুনের আগে সোমবার (১৩ জুলাই) আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে দিকে ফাহিমকে একটি সিসিটিভি ক্যামেরাতে শেষবারের মতো দেখা যায়।

এতে দেখা যায়, ভবনের লিফট দিয়ে সাততলায় নিজ ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন ফাহিম। একই ফুটেজে, ফাহিমের সন্দেহভাজন খুনিকেও দেখা যায়। হাতে একটি প্লাটিকের ব্যাগ নিয়ে ফাহিমের সঙ্গেই লিফটে ওঠেন আততায়ী।

গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী স্থানীয় পুলিশের মতে এটি একটি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা। ফাহিমের ঘরে পাওয়া মরদেহটির মাথা, হাত এবং পা শরীর থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। মরদেহের পাশেই একটি ইলেকট্রিক করাত মেশিন পাওয়া যায়। আর শরীরের কাটা অঙ্গগুলো মরদেহের পাশেই একটি প্লাস্টিক ব্যাগে পাওয়া যায়। পুলিশ এটিকে ‘খুবই কুৎসিত’ হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছে।

নিহত ফাহিম সালেহ বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও ছাড়াও নাইজেরিয়াতে ‘গোকান্ডা’ নামক আরেকটি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। পেশায় ওয়েবসাইট ডেভেলপার ফাহিম অ্যাডভেঞ্জার ক্যাপিটাল গ্লোবাল নামক একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানেরও উদ্যোক্তা ছিলেন।

Facebook Comments

Posted ২:৩০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০

dailymatrivumi.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মুন্না
প্রকাশক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মশি শ্রাবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

রূপায়ন করিম টাওয়ার, ৮০ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, রমনা ঢাকা।
ফোন : ০২৪৮৩২২৮৮০
email : matrivumi@gmail.com

মিরর মাল্টি মিডিয়া প্রডাকশন লি: এর পক্ষে প্রকাশক মশি শ্রাবন কর্তৃক বি.এস.প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।