লিওনেল মেসি ছিল বার্সার সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো! তার পেছনে যেমন কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢেলেছে কাতালান ক্লাবটি। ঠিক তেমন পেয়েছেও রাশি রাশি। সেটা অর্থ বলি আর অর্জন বলি- দুই দিকেই সমানভাবে বার্সাকে দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন। এবার যখন বার্সা থেকে পিএসজিতে চলে গেলেন মেসি। তখন এই দুই প্রান্তেই বড়সড় ধাক্কা লাগার কথা। যার মধ্যে মাঠের পারফরম্যান্সের কথা আপাতত বাদ দিলে অর্থের দিক থেকে যে অনেক বড় ক্ষতি হতে চলেছে, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত। বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডভ্যালু নির্ধারণের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স জানিয়েছে, মেসি বার্সা ছাড়ার কারণে তাদের ব্র্যান্ডভ্যালু এক লাফেই ১৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো কমে গেল। এ জন্য তারা বিভিন্ন যুক্তিতর্কও সামনে এনেছে।
গেল পাঁচ বছরে মেসির পেছনে বার্সার ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি ইউরো। অন্যদিকে দলটির আয়ের প্রধান উৎসও ছিলেন মেসি। গত মৌসুমে অনেকটা এলোমেলো খরচে দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কায় ছিল বার্সা। সব মিলিয়ে ১০০ কোটি ইউরোর বেশি দেনা করে তারা, যা নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। যদিও সমর্থকদের টান আর বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ আসায় সেটা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় বার্সা। আর ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সই জানিয়েছিল, ২০২১ সালে ব্র্যান্ডভ্যালুর দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্লাব বার্সা। এবার মেসি চলে যাওয়ার পর তাদের সেই মুকুটে লাগল আঘাত। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের দাবি, লিওর চলে যাওয়ার খবর চাউর হওয়ার পরই বড় একটা ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বার্সা। সামনের দিনগুলোতে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে। মূলত একটি প্রতিষ্ঠানের আয়ের কতভাগ তার পরিচয়ের জন্য অর্জিত হয়, সেটা ব্র্যান্ডভ্যালু। এতদিন যেখানে মেসির কারণে বার্সার অবস্থান ছিল অনেক ওপরে। সেটা নামতে যে দেরি হবে না তেমনটাই বলেছে ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স। তারা মোটা দাগে তিনটি দিক নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছে; যেগুলো হলো- বাণিজ্যিক আয় কমবে, মাঠের খেলা ও ম্যাচের দিনের আয়ের বড় প্রভাব পড়বে এবং ক্লাবের জার্সি ও অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমে যাবে।
বাণিজ্যিক আয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে স্পন্সরে। আগে যেমন মেসি থাকায় বড় বড় কোম্পানি বার্সাকে মোটা অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করতে চাইত। সামনে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। বিশ্বজুড়ে মেসির সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে স্পন্সরগুলো মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। কিংবা কম দামে চুক্তি করতে চাইতে পারে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। ইনস্টাগ্রামে যেখানে মেসির ফলোয়ার ২৪ কোটির বেশি। সেখানে বার্সার ১০ কোটিও না। বুঝতেই পারছেন, তার দিকে সমর্থকদের চোখ কেমন। এ ছাড়া গত কয়েক মৌসুমে বার্সার যত জার্সি বিক্রি হয় তার সিংহভাগই নাম্বার টেন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কেবল মেসির জার্সি থেকেই বার্সা আয় করেছে ২০ কোটি ইউরো। যার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ যায় বার্সার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। বাকিটা পায় তাদের জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাইকো। মেসির পিএসজিতে যাওয়ায় নাইকোর লস তেমন হওয়ার কথা নয়। কেননা নেইমারদের জার্সিও তারা সরবরাহ করে। তবে এটা সত্য, বার্সার মতো পিএসজির এখনও সে পরিমাণ ফ্যান-ফলোয়ার হয়নি। হয়তো মেসি যাওয়ার পর সেটা বাড়বে। আরেকটি দিক নিয়ে আলোচনা করেছে ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স। তারা বলেছে, করোনার কারণে এখন দর্শকছাড়া ফুটবল হলেও একটা সময় যখন আবার গ্যালারিতে দর্শক ফিরবে, তখন আগের মতো ভিড় নাও থাকতে পারে। অনেকে এই ক্লাবের ম্যাচ সেভাবে মন দিয়ে দেখবেন না। তেমনটা হলে টিকিট বিক্রি যেমন কমবে, তেমন ম্যাচের দিনের আয়েও ভাটা পড়বে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বার্সা তাদের বড় একটা সমর্থক অংশ হারাবে। পাশাপাশি কমবে লা লিগার জৌলুসও।
Posted ৭:০১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১১ আগস্ট ২০২১
dailymatrivumi.com | Mohammad Salahuddin