মঙ্গলবার | ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

A National Daily In Bangladesh

শিকল বাঁধা জীবনের ২০ বছর

শিকল বাঁধা জীবনের ২০ বছর

হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ৫০ বছর বয়সী সন্তানের পায়ে শিকল পরিয়ে রেখেছে তার গর্ভধারিণী মা। গত ২০ বছর ধরে পায়ে শিকলের বেড়ি নিয়ে যন্ত্রণার জীবন-যাপন করছেন নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) আব্দুল মতিন (৫০)।

মতি কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ এর ছেলে। স্ত্রী সন্তানেরা মতির কোনও খোঁজ না নেয়াতে বর্তমানে তিনি অসহায় বৃদ্ধা মা ও তার বোন, ভাগ্নির সঙ্গে উপজেলার দীঘলকুর্শা গ্রামে ভগ্নীপতি মৃত আব্দুল হাই মিয়ার বাড়িতে গাছের সঙ্গে শিকল-বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা জানান, মতি এক সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। তিনি একজন ভালো মিস্ত্রী ছিল। কিন্তু কোনও এক অদৃশ্য কারণে হঠাৎ করে তার মাথায় সমস্যা হয়। এর পর তিনি কিছু দিন নিখোঁজ থাকে। অনেক কষ্টে তাকে খুঁজে বের করে তার পরিবার। খুঁজে পাওয়ার পর সন্তান হারানোর ভয়ে এখন পায়ে শিকল দিয়ে মতিকে গাছের সঙ্গে তালা লাগিয়ে রাখে তার বৃদ্ধা মা। মানসিক ভারসাম্যহীন মতি মাঝে মাঝে স্বাভাবিক মানুষের মতোই আচরণ করে। আবার মাথায় সমস্যা হলে তিনি পাগলের মতো হয়ে ঘর-বাড়ি ভাংচুর করে।

মানসিক ভারসাম্যহীন মতি মিয়ার বৃদ্ধা মা জুহেলা খাতুন জানান, এমন এক সময় ছিল আমার মতি রাজমিস্ত্রির কাজ করে দৈনিক সাতশ’ টাকা পেত। আর এখন ২০ বছর ধরে তার ছেলে পাগল। অর্থের অভাবে ছেলেটারে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তার স্ত্রী সন্তানেরাও তার কাছ থেকে দূরে চলে গেছে। যদি কোনও জায়গা থেকে সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যেত তাহলে তার ছেলেরে চিকিৎসা হত।

Facebook Comments

Posted ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২০

dailymatrivumi.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মুন্না
প্রকাশক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মশি শ্রাবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

রূপায়ন করিম টাওয়ার, ৮০ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, রমনা ঢাকা।
ফোন : ০২৪৮৩২২৮৮০
email : matrivumi@gmail.com

মিরর মাল্টি মিডিয়া প্রডাকশন লি: এর পক্ষে প্রকাশক মশি শ্রাবন কর্তৃক বি.এস.প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড (মামুন ম্যানশন, গ্রাউন্ড ফ্লোর), থানা-ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।