২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৩টি কলেজের একাদশ শ্রেণির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক স্বীকৃতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরিন স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
পাঠদান স্থগিত করা কলেজগুলো হলো—
১।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
২। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
৩। লক্ষ্মীপুর সদরের ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ
৪। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
৫।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ষাইটশালা আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
৬। কুমিল্লার লালমাইয়ের সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ
৭। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চানপুর আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
৮। লক্ষ্মীপুরের রামগতির সেবা গ্রাম ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ
৯।
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের জিবগাঁও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
১০। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ
১১। কুমিল্লার দাউদকান্দির অজরা এস ই এস ডিপি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
১২। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোহা স্মৃতি গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং
১৩। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শরিফুল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশের হার শূন্য থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফল অত্যন্ত হতাশাজনক বলে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় বোর্ড থেকে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সামছুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান বোর্ডের নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে খারাপ ফলাফল করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।’
সামছুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বোর্ডের পরীক্ষা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, পাসের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকা প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির পাঠদান এবং একাডেমিক স্বীকৃতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী আলম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এ জন্য বোর্ড বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা নিয়েছে।’
নুরুন্নবী আলম আরো বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ হলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Posted ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬
dailymatrivumi24.com | Mohammad Salahuddin