https://dailymatrivumi.com


লালমনিরহাট জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশনের মাঝপথে রোগীকে রেখে চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) ‘আয়েশা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাতের টিউমার অপারেশনের জন্য গত ২ মে লালমনিরহাট সদর উপজেলার এক রিকশাচালককে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েম নিজেই অপারেশনের দায়িত্ব নেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ওটি থেকে বেরিয়ে এসে জানান, টিউমারটি হাতের রগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় অপারেশন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর রোগীকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি ক্লিনিক ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগীর ভাতিজা অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তার আগে থেকেই আশ্বস্ত করেছিলেন অপারেশন করতে পারবেন। কিন্তু হাতের কবজি আংশিক কেটে ফেলার পর তিনি অপারেশন অসম্ভব বলে জানিয়ে চলে যান। এতে আমার চাচার হাত পঙ্গু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, রোগী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তাদের পরিস্থিতি এখন চরম সংকটাপন্ন। চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীন আচরণের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হয়েছেন।স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসক মূলত এনেসথেসিস্ট হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্লিনিকে সার্জারি করে আসছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অপারেশন মাঝপথে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ক্লিনিকের মালিক সুমন ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজনা প্রশমিত করে।জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, “একজন এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ সার্জারি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।


