অসৎ উপায়ে অর্জিত ক্ষমতা আর জনপ্রিয়তা দুটি নিচে নামার সিঁড়ি। উপরে উঠলে নিচে নামতে হয়। উত্থান যেমন আছে আবার পতনও আছে। তবে ১৯৯১-২০২৪ রাজনীতিতে এই নেতার উত্থান পতন যেন গিরগিটির চরিত্রকেও হার মানাবে। সামান্য কলেজ ছাত্রদলের নেতা থেকে, জাতীয় পার্টির (জেপি) তে যোগ দিয়ে সাবেক মন্ত্রীর কর্মচারী (পিএস) পরে তো জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় পিরোজপুরের প্রভাবশালী এই নেতা। এমন তথ্যই উঠে এসেছে জাতীয় দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া প্রথিতযশা সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জন্য সাত দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভাণ্ডারিয়া সুপরিচিত। মানিক মিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জাতীয় রাজনীতিতে ছিলেন আলোচিত। ভাণ্ডারিয়াকে মনে করা হয় তাঁর মজবুত ঘাঁটি। তবে প্রায় আট বছর আগে এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মহিউদ্দিন মহারাজ নামে একজনের হঠাৎ আবির্ভাব ঘটে। এর পর টাকার দাপটে পিরোজপুর জেলায় সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি।
তাঁর অর্থ, প্রভাব ও প্রতিপত্তি রূপকথার গল্পের মতো। দলীয় রাজনীতি তাঁর কাছে ছিল ধরাশায়ী। আইন-আদালত তাঁর কাছে ঠুঁটো জগন্নাথ। স্থানীয় প্রশাসনের বড় কর্মকর্তারা তাঁর কাছে ছিলেন ছাপোষা। মহারাজ বন্দনা করতে পাড়া-মহল্লা এমনকি ঘরে ঘরে গড়ে তোলা হয় কমিটি। এসবের জন্য টাকা যেন বাতাসে উড়ত। ফলে মহারাজ পরিবার যা চাইত, সেটাই হতো পিরোজপুরে। যে কোনো ভোটে নিজে জিততেন, পছন্দের প্রার্থীদের জেতাতেন।
আগের দিনের মহারাজদের মতোই টাকার ভান্ডার ছিল মহারাজের। শুধু টাকার জোরে একটি জেলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি মাত্র কয়েক বছরে বদলে ফেলেছেন মহারাজ। এ প্রসঙ্গে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা খান এনায়েত করীম সমকালকে বলেন, ‘মহারাজ পরিবার যেভাবে টাকা খরচ করেছে, তাতে মনে হতো, তারা নিজেরাই টাকা ছাপাত।’
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউকে ম্যানেজ করতে মহারাজের উপহার ছিল নগদ টাকা। আবার কাউকে দেওয়া হতো মোটরসাইকেল, গাড়ি অথবা ফ্ল্যাট। যাকে কিছু দিয়েই ম্যানেজ করা যেত না, তাকে দেশের বিভিন্ন থানায় গায়েবি মামলায় ফাঁসানো হতো।
মহারাজের সঙ্গে তাঁর ভাই মিরাজুল ইসলামও ছিলেন বেপরোয়া। একসময়ে সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করা মিরাজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে দেশে ফেরেন। ভাইয়ের কল্যাণে ভাণ্ডারিয়ার গডফাদার হয়ে ওঠেন। মহারাজের পক্ষে এলাকার সব মিশন বাস্তবায়ন করতেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহারাজ ম্যানেজ করতেন রাজনৈতিক নেতাদের। মিরাজের দায়িত্ব ছিল প্রশাসন, বিশেষ করে ঠিকাদার-সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করা।
গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মহারাজ পরিবার আত্মগোপন করেছে। তবে পরিবারটির টাকায় সৃষ্ট কীর্তির আলোচনা পিরোজপুর জেলার গণ্ডিও ছাড়িয়েছে। তবে এত টাকার উৎস রহস্যে ঘেরা।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহারাজ স্বর্ণ চোরাচালানের আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য। গ্রামের বাড়ি তেলিখালী সংলগ্ন নদী হয়ে সুন্দরবন রুট ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য চোরাচালান করতেন তিনি। তবে তাঁর দৃশ্যমান বাণিজ্য ছিল ঠিকাদারি। এ বাণিজ্যে নয়ছয়ের অগণিত অভিযোগ পরিবারটির বিরুদ্ধে। একই সড়ক এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথের দেখিয়ে একাধিকবার দরপত্র করে টাকা আত্মসাৎ, স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্প পাস, কাজ অসমাপ্ত রেখে পুরো বিল তুলে নেওয়া, আবার সেই কাজই পুনঃদরপত্রে আরেকবার সংস্কারসহ অগণিত অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।
গত ১০ বছরে জেলার সব বড় উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার ছিলেন তারা। এলজিইডিকে তারা পরিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যবহার করেছেন। গত কয়েক বছরে খুলনার শেখ পরিবারকে ম্যানেজ করে তাদের ঠিকাদারি বাণিজ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছিল বলে জানা গেছে। মিরাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি এন্টারপ্রাইজের নামে আওয়ামী লীগের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গেও মহারাজের সখ্য ছিল। নিজের ইউনিয়ন তেলিখালীকে থানা ঘোষণা দিতে গত ২০ জুলাই আসাদুজ্জামানের সেখানে সফরের সূচি ছিল। ছাত্র আন্দোলনে ওই কর্মসূচি বাতিল হয়।
মহারাজের উত্থান যেভাবে
১৯৯১ সাল পর্যন্ত মহারাজ ছিলেন ছাত্রদল নেতা। এখন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৯১ সালে ভাণ্ডারিয়া সরকরি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের মনির হোসেন আকন-আব্দুল মান্নান পরিষদে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী ছিলেন মহারাজ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্যানেলের জিএস প্রার্থী ও বর্তমানে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তখনকার জাপা নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মহারাজ। ভাণ্ডারিয়া জাপার তখনকার প্রভাবশালী নেতা মনির জমাদ্দারের ‘রেস্ট হাউস’ নামে আবাসিক হোটেলে ম্যানেজারের চাকরি, বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন মহারাজের বাবা শাহাদত। মনির জমাদ্দারের মাধ্যমে মহারাজ জাপায় যোগ দিয়ে মঞ্জুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হন। এই সুবাদে মহারাজের নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত এবং ওপর মহলে সম্পর্ক হয়। এখান থেকেই তাঁর উত্থান এবং টাকা আয়ের উৎস সৃষ্টি হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সিলেট-১৭ আসনের এমপি এনামুল হক মোস্তফা এবং পরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছিলেন মহারাজ। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর তখনকার এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম আউয়ালকে স্বর্ণের নৌকা উপহার দিয়ে এই দলে যোগ দেন।
এর পরই মহারাজ পিরোজপুরের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের মিশনে নামেন। ২০১৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-স্বরূপকাঠি-কাউখালী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সাতবারের এমপি মঞ্জুকে হারান। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেও মঞ্জু হার ঠেকাতে পারেননি। তার আগেই এলাকায় জেপিকে তছনছ করে দিয়েছেন মহারাজ। মঞ্জুকে ভোটে হারিয়ে বর্ষীয়ান এ নেতার রাজনীতিতে শেষ পেরেক ঠুকে দেন একসময়ের তাঁর এ কর্মচারী। যে কারণে মহারাজকে এলাকায় বলা হয়, ‘গুরু মারা শিষ্য।’
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জাপার উত্থান-পতন ঘটলেও মঞ্জু এর আগে কখনও ভোটে হারেননি। এমনকি ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীতে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারও নির্বাচিত হতেন জেপি নেতাকর্মীরা।
মহারাজের বাবা শাহাদত হোসেন তেলিখালী ইউনিয়নের দু’বারের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন হাওলাদার মহারাজের সেজো ভাই। মেজো ভাই মিরাজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। চার ভাইয়ের তিনজনেই জনপ্রতিনিধি ও দলের প্রভাবশালী নেতা। ছোট ভাই সালাউদ্দিন ভাইদের পক্ষে ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন।
পেশিশক্তির রাজনীতি
২০১৬ সালে জীবনে প্রথমবার ভোটে এসেই বাজিমাত করেন তিনি। জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলমকে পরাজিত করেন। ২০২২ সালে ফের ভোটের প্রস্তুতি নিলে ৭৪৭ জন ভোটারের মধ্যে ৭০৪ জন মহারাজকে লিখিত সমর্থন জানিয়ে রেজুলেশন পাস করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে পাঠান। তবে দলের উচ্চ পর্যায়ের চাপে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হননি। পরে সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মঞ্জুকে হারিয়ে বিজয়ী হন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের ভোটে ইউপি চেয়াম্যান ও মেম্বারদের ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন মহারাজ। এর সঙ্গে অনেকে পেয়েছেন মোটরসাইকেল। ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে জেলার প্রায় সব প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ বহন করেন মহারাজ। ফলে ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালীর সব চেয়ারম্যান-মেম্বার জেপি ছেড়ে মহারাজের আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
এ বছরের উপজেলা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায নির্বাচিত না হতে আওয়ামী লীগের কঠোর নির্দেশনা ছিল। কিন্তু মহারাজ ভাণ্ডারিয়ায় ভাই মিরাজকে চেয়ারম্যান ও দু’জন ভাইস চেয়ারম্যানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করেন। আগের নির্বাচনেও মিরাজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সেজো ভাই তেলিখালী ইউনিয়নের দু’বার চেয়ারম্যান হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাদের পিতা তিনবারের চেয়ারম্যান দু’বারই হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম উজ্জল বলেন, ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ফারুক খানকে জেলা শহরে পাঠান। মহারাজের লোকজন তাঁকে অপহরণ করে মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হওয়ার তিন দিন পর মুক্তি দেয়। পরে ফারুককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসা খুলে দেন মহারাজ। সর্বশেষ সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ অফিস ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের সাজানো মামলায় তাঁকেসহ জেপির সক্রিয় সব নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠান অথবা এলাকাছাড়া করেন।
১৯৬৬ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ভাণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এনায়েত করীম। তিনি এ বছরের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এনায়েত বলেন, নির্বাচন না করতে চাপ দিতে তখনকার ওসি আবির হোসেন তাঁকে থানায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে অঙ্গীকারনামা রেখে ছেড়ে দেন। জাতীয় নির্বাচনে মঞ্জুকে হারাতে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দিতে মহারাজের পক্ষে প্রশাসন ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সবাইকে খুশি রাখতেন
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের দিন পর্যন্ত তাঁর মুখ্য সচিব ছিলেন ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেন। তাঁকে খুশি করতে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তোফাজ্জেলের বাড়ির পারিবারিক পুকুরটির সৌন্দর্যবর্ধন করে দেওয়া হয়। তাঁর টিনশেড ঘরটি মহারাজ তিনতলা পাকা ভবন করে দেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।
জানা গেছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুধু ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় প্রায় ৪০০ গার্ডার সেতু নির্মাণ করেছে এলজিইডি। এসব সেতুর নির্মাণ ব্যয় ছিল দেড় কোটি থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত। মহারাজ পরিবারের সদস্যদের ঠিকাদারি লাইসেন্সে সব নির্মিত হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্থানে অপ্রয়োজনীয় সেতু করা হয়েছে। জানা গেছে, সেতু নির্মাণ প্রকল্প গঠনে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী থেকে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত মহারাজের ম্যানেজ ছিল।
জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মহারাজের গোপন সমঝোতারও নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এ কারণে সরকার পতনের পর ভাণ্ডারিয়াসহ জেলায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে আসামির তালিকায় নেই মহারাজ পরিবারের কারও নাম।
অঢেল সম্পদ
২০১৬ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে হলফনামার তথ্যানুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। আর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
গত সংসদ নির্বাচনের হলফনায় দেওয়া তথ্যমতে, তাঁর বার্ষিক আয় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা সাত বছর আগের আয়ের প্রায় ১৪ গুণ।
অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ টাকা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ ৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে ৬৯ লাখ টাকা। ইফতি ইটিসিএলে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা রয়েছে। ঢাকার বড় মগবাজার মৌজার শান্তা গার্ডেনের ২ নম্বর টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট ও বসুন্ধরা সিটিতে দোকান আছে। ‘উপহার পাওয়া’ অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ৫০ ভরি স্বর্ণ আছে। ছেলে ও স্ত্রীর মিলিয়ে রয়েছে আরও ১৪৮ ভরি স্বর্ণ। তিনি যে গাড়িতে চড়েন, তার দাম ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া কারওয়ান বাজারসহ বেশ কিছু জায়গায় এবং ভাণ্ডারিয়ার বিভিন্ন স্থানে একাধিক বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, জমি ও মার্কেটের মালিক মহারাজ। তাঁর ভাইদেরও আলিশান বাড়ি।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের হলফনামায় দেওয়া তথ্যের কয়েক গুণ বেশি সম্পদ রয়েছে মহারাজের। বিদেশেও তাদের সম্পদ রয়েছে। এমপি হয়ে কাউখালী ও স্বরূপকাঠি উপজেলায় জমি কিনেছেন বাড়ি করার জন্য। ভাণ্ডারিয়ায় কয়েকটি বাড়ি কিনেছেন। মহারাজের ফোন বন্ধ থাকায় এবং ভাই মিরাজুল ইসলাম ফোন রিসিভ না করায় এসব বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।