ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও আবেগঘন শব্দগুলোর একটি ‘বাবা’। এই ছোট শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা, নির্ভরতা ও নিরাপত্তার এক গভীর অনুভূতি। বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়, যা এ বছর পড়েছে ২১ জুন। সন্তানের জীবনে বাবার অবদানকে সম্মান জানাতেই বিশ্বব্যাপী এই দিনটি পালন করা হয়।
ইতিহাস বলছে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাবা দিবস উদ্যাপনের সূচনা হয়। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও সন্তানের জীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল—এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই দিবসটি চালু করা হয়েছিল।
বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন সনোরা স্মার্ট ডড। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস নামে কোনো বিশেষ দিন ছিল না। স্থানীয় গির্জায় মা দিবস পালনের কথা শুনে তিনি অবাক হন যে বাবাদের জন্য এমন কোনো দিন নেই। কারণ তিনি তার বাবাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।
মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা একাই সাত সন্তানকে বড় করে তোলেন। বাবার সেই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হয়, যেমন মায়েদের জন্য একটি বিশেষ দিন আছে, তেমনি বাবাদের জন্যও একটি দিন থাকা উচিত।
এরপর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়। ধীরে ধীরে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালিত হয়।
আরও পড়ুন: কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার প্রত্যাহার
বাবারা ভালোবাসেন ভিন্নভাবে। অনেক সময় তাদের ভালোবাসা সরাসরি চোখে পড়ে না, কারণ তারা আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। সংসারের ভার, সন্তানের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা—সবকিছু কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যান তারা।
আজকের দিনে বাবার জন্য কিছু সময় রাখা, তার পছন্দের খাবার দেওয়া, পুরনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা কিংবা দূরে থাকলে ফোনে কথা বলাও হতে পারে বিশেষ উপহার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকে বলা—“তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।”