ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সোমবার ভোরে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে একাধিক আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লাগে। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি গুদামঘর ও একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপও ধ্বংস হয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া কিয়েভে আরও একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। তবে মস্কোর দাবি, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রুশ ভূখণ্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ
এ হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে।
সম্মেলনের আগে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনকে দ্রুত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে যেকোনো বিলম্ব মানে আরও প্রাণহানি, আর তা রাশিয়াকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।’