ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা শনিবার তেহরানে শুরু হয়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন চত্বরে আনা হয়।
কফিনের ওপর তার পরিচিত কালো পাগড়ি রাখা ছিল। তার পাশে নিহত পরিবারের সদস্যদের মরদেহও রাখা হয়।
আলি খামেনির কফিনের পাশাপাশি আরো চারটি কফিন রাখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি শিশুর কফিনও রয়েছে। শিশুর কফিনটি আলী খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির।
সব কফিনই ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো।
আরো যে মরদেহগুলো আছে সেগুলো হলো, তার মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি, তার সবচেয়ে বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি, তার ছেলের বউ ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেলের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলি খামেনি এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শোক পালন করা হচ্ছে এবং তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হচ্ছেন।
ছয় দিনব্যাপী দাফন অনুষ্ঠানের জন্য খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানে আনা হয়। এই সময় তার মরদেহ ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে।
শনিবার সকালে জনসাধারণের জন্য গ্র্যান্ড মোসাল্লা খুলে দেওয়ার আগে শুক্রবার রাত থেকেই শত শত সমর্থক সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। আজ সকালে ফটক খোলার পরই হাজার হাজার মানুষ জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভেতরে প্রবেশ করেন।
অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অনেক শোকাহত ব্যক্তি লাল ব্যানার বহন করছিলেন, যা প্রতিশোধের দাবির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় তারা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন।
২৭ বছর বয়সী এক শোকাহত ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় নেতা আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। এমন দিন দেখতে হবে, কখনো ভাবিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনার আগে যদি আমি মারা যেতাম!’
শুক্রবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাগের গালিবাফকে আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত অবস্থায় দেখা যায়।
জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন আহমদ ওয়াহিদি। একই হামলায় তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর তিনি ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। ভারতের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করছেন সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পবিত্র মার্গারিটা।
প্রয়াত নেতা আলী খামেনির কফিন সোমবার পর্যন্ত তেহরানে রাখা হবে। ওই দিন রাজধানীজুড়ে একটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ধর্মীয় নগরী কোমে। বুধবার তা প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের নিজ শহর মাশহাদে আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।