ডালাস স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের দিনে মেসি কেবল আর্জেন্টিনাকে জেতাননি, বরং নিজেকে নিয়ে গেছেন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে পৌঁছানো যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক অলীক স্বপ্ন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে এখন এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন অলঙ্কৃত করছেন লিওনেল মেসি।
ম্যাচের ৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি, যা গ্যালারিজুড়ে এক লহমায় নীরবতা নামিয়ে আনে। এই মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ তিনটি পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও নিজের নামের পাশে যোগ করেন তিনি। তবে ফুটবল ঈশ্বর যার জন্য রাজকীয় মঞ্চ সাজিয়ে রেখেছেন, তাকে কি আর একটি ব্যর্থতায় আটকে রাখা যায়? ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো পাস বুক দিয়ে নামিয়ে এক জাদুকরী ভলিতে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপান মেসি। এই গোলের মাধ্যমেই ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে ১৭ গোল নিয়ে ইতিহাসের চূড়ায় বসেন তিনি। তবে সেখানেই থামেননি; ম্যাচের ৯৪ মিনিটে জটলার ভেতর থেকে আরও একটি অসাধারণ গোল করে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন। এর মাধ্যমে তিনি পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি মার্তার বিশ্ব রেকর্ডকেও স্পর্শ করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচেই মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫—উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল। এই জয়ের ফলে ‘জে’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে লিওনেল স্কালোনির দল।
আরও পড়ুন: চীনে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী
এই ম্যাচে গোল করে মেসি আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী, যা এর আগে জাস্ট ফন্টেইন ও জেয়ারজিনহোর দখলে ছিল। এছাড়াও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০টি ভিন্ন ম্যাচে দলের প্রথম গোলদাতার কৃতিত্বও এখন তাঁর। যদিও পেনাল্টি মিসের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা দলগতভাবে এখন শীর্ষে (৫ বার), তবে ব্যক্তিগত অর্জনে মেসি সব সমালোচনার উর্ধ্বে।