ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যু ২ হাজার ৯৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হাজার ৫৯২ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৩০৯ জন। এদিকে বিপর্যয়ের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের জীবিত খুঁজে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন পরিবারের সদস্যরা।
তবে উদ্ধারকাজ চলছে ধীরগতিতে যার কারণে অনেকেই ক্ষোভ জানাচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে হতাহতের প্রকৃত তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আন্তর্জাতিক সহায়তা দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হচ্ছে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে লা গুয়াইরা উপকূলীয় অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এতে প্রাণ হারান বহু মানুষ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ভূমিকম্পের পর পেরিয়েছে ১০ দিন। প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মিলছে মরদেহ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই কমে গেছে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা। তবে এখনও ধসে পড়া ভবনের আশপাশে কেউ অপেক্ষা করছেন সন্তানের জন্য, কেউ আবার মা-বাবার জন্য। তারা কেউ জানেন না, প্রিয় মানুষটি জীবিত আছেন কি না। তবুও চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধার অভিযান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এরইমধ্যে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকারী দল। যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, চিলি, এল সালভাদর, পেরুসহ অনেক দেশের উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত এক করে খুঁজছেন জীবনের চিহ্ন। এই চরম মানবিক সংকটে ভেনেজুয়েলার হাজারো সাধারণ মানুষও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়েছেন উদ্ধার অভিযানে। শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্র, ড্রোন, বিশেষ ক্যামেরা আর প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে চলছে অনুসন্ধান।
দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৪৫ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে প্রায় ৩০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৩ হাজার ২৮১ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন।
হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ভারী যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানকারী দল এবং বিশেষায়িত সরঞ্জাম ব্যবহার করে দুর্গত এলাকায় দিনরাত কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা
ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।