ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন কারারক্ষীসহ ২৩ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। দেশটির গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ কারাগার দাঙ্গার ঘটনা। আজ সোমবার (৬ জুলাই) শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানায়, রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো এলাকার প্রধান কারাগারে দুটি মাদক চক্রের বন্দিদের মধ্যে রাতভর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর আহতদের দ্রুত নেগোম্বো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দেশুটির সরকারি হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, তার চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৩টি মরদেহ আনা হয়েছে এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত বন্দি ও রক্ষীকে ভর্তি করা হয়েছে।
টেলিফোনে এএফপি-কে গামলাথ বলেন, ‘কয়েকজন ভুক্তভোগীর শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে, আবার কারো কারো শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারাত্মক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।’
কর্মকর্তারা জানান, কয়েক হাজার বন্দি থাকা নেগোম্বো কারাগারে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
কারাগারের ভেতরে মারামারির খবর ছড়িয়ে পড়লে, রোববার রাতে সংলগ্ন আরেকটি অংশের নারী বন্দিরা ছাদের ওপর উঠে যান এবং তাদের মুক্তির দাবি জানাতে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, এসময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়লে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ সোমবার পুলিশ কমান্ডোদের ডাকা হলেও কারাগারের ভেতরে তাদের মোতায়েন করা হয়নি। এ সময় কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের বিশাল ভিড় জমে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বিমান বাহিনীর ড্রোন এবং একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩৩৪২
একজন পুলিশ কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেন, ‘দাঙ্গা থামাতে গিয়ে চারজন রক্ষী নিহত হয়েছেন। আজ সকালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।’
এর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ মহামারির চরম সময়ে শ্রীলঙ্কার অন্য একটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন বন্দি নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর সরকার গাদাগাদি করে থাকা কারাগারগুলো থেকে শত শত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল।