https://dailymatrivumi.com


ছবি: -সংগৃহীত
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও আগামী সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়ার কারণে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আগামী ২২ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তী পাঁচ দিন এই বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলায় প্রায় ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার, সেখানে পাহাড়ধস ও ঢলে ৩২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন মারা গেছেন।
আক্রান্ত জেলাগুলোয় ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ৮৪৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য চাল, নগদ টাকা, শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা।
বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি চলবে।


