https://dailymatrivumi.com


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: -সংগৃহীত
‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একই সাথে তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি ১৬ জুলাই দিনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, জাতি চিরকাল তাদের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব দেশপ্রেমিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের অবদানের প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণকারী আহত তরুণ-যুবকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের অর্জন নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, নিপীড়ন, স্বৈরশাসন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাহসের বহিঃপ্রকাশ।
আন্দোলনের মোড় ঘোরানো মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া এবং দেশের অন্যান্য স্থানে তরুণের আত্মত্যাগ এই আন্দোলনকে এক নতুন গতি দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন সত্ত্বেও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তিনি যোগ করেন, জুলাইয়ের এই চেতনা এখন একটি মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে প্রেরণা জোগাবে।
আরও পড়ুন: ইরান খুব শিগগিরই পরাজিত হবে : ট্রাম্প
পরিশেষে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া, তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা, আহতদের পুনর্বাসন এবং সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই মহৎ কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বাণীর শেষ অংশে রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দিবসের সব কর্মসূচির সফলতা প্রত্যাশা করেন।


