https://dailymatrivumi.com


ছবি: -সংগৃহীত
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৪ জনে পৌঁছেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মৃত্যুর এই হার ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৫ জনে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিহাসে নথিভুক্ত ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুলসালামি নাসিদি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, কোনো কার্যকর টিকা ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় ভাইরাসটি ‘দাবানলের মতো’ ছড়িয়ে পড়ছে।
চলতি প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী মূলত ‘বান্ডিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। মানবদেহে আক্রমণকারী ইবোলার পরিচিত চার প্রজাতির মধ্যে এটি সবচেয়ে বিরল। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই রূপটির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্ধারিত চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানীরা বিশ্বজুড়ে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ পরীক্ষামূলক একটি প্রতিষেধকের প্রথম ডোজ একজন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে প্রয়োগ করেছে। গবেষক ক্যাটরিনা পোলক একে একটি নতুন টিকা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে অভিহিত করেন।
তবে পূর্ব কঙ্গোর চলমান রাজনৈতিক সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা পুরো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে জানিয়েছেন, দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে না পারায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ট্রাইব্যুনালে একরামুল হত্যা মামলা: অভিযুক্ত হাসিনাসহ ১১ জন
প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্র ইতুরি প্রদেশে ইতিমধ্যে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন অন্তত ৩৫ জন। সুরক্ষা সরঞ্জামের মারাত্মক ঘাটতি, বকেয়া বেতন ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের অভিযোগে সেখানকার একাধিক ইবোলা ডেডিকেটেড হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ও নার্সরা ধর্মঘট পালন করছেন। ফলে সেখানে রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা থমকে গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় দেখা দেওয়া ইতিহাসের ভয়াবহতম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রথম এক হাজার মানুষের মৃত্যু হতে প্রায় আট মাস সময় লেগেছিল। অথচ ডিআর কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে সেই সমপরিমাণ প্রাণহানি ঘটেছে মাত্র ১০ সপ্তাহেরও কম সময়ে। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পূর্ব কঙ্গোয় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আফ্রিকা সিডিসি।


